ESTD. 2000 অঙ্কনতীর্থ • School of Arts & Drawing • Admissions Open 2026–27
Back to Atelier Gazette

ভবিষ্যৎ মানে বর্তমানে বুঝি চাকরি!

ভবিষ্যৎ মানে বর্তমানে বুঝি চাকরি!

আল্পনা রং( ৩য় বর্ষ ) বাড়ি ছত্রশাল, অরুণ্ডা। ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ ক্যাম্পাস। কাঠের ভাস্কর্য তৈরিতে ব্যস্ত। 

ছবি আঁকা বরাবরই একটা অবহেলার সাবজেক্ট। বর্তমানে ছবি আঁকা ছোটদের মধ্যে যথেষ্ট প্রচলিত হলেও এ সাবজেক্ট আগের মতোই অবহেলাতেই রয়েছে। তার কারণ অনেকেই মনে করেন ছবি আঁকা থেকে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ভবিষ্যৎ বলতে বুঝি এর থেকে একটা কাজ বা চাকরি। যেহেতু সেটা রন্ধে রন্ধে পৌঁছে গেছে তাই ছবি আঁকা অবহেলার বা অফ টাইমের সাবজেক্ট হিসেবে রয়েছে। এমনিতে ক্লাস সেভেন- এইট হওয়া মানে ছবি আঁকাটা বন্ধ হয়ে যায় ৭০ শতাংশ ছেলে মেয়েদের মধ্যে। কারণ পড়ার চাপ বাড়ে। যদিও কথাটা এভাবে বলে, আঁকার ক্লাসের সময় একটা পড়া পড়ে গেছে দুম করে। অনেকে এসে জানায় স্যার আমার একটা পড়া পড়ে গেছে আঁকার ক্লাসের সময় ইত্যাদি ইত্যাদি...। অনেকে দুম করে ছেড়ে দেয়, জানানোর প্রয়োজনটুকু মনে করে না। অনেকে ফাঁকা সময় দেখে নতুন আঁকার টিচারের খোঁজ করে। অবসরের সময়ের সাথে সেই টিচারের সময় মিলে গেলে তবেই আঁকার ক্লাস রাখা যাবে। ছবি আঁকার ভালো টিচারের খোঁজে করে কেউ যদি টিচার চেঞ্জ করে সেটা অবশ্যই ছবি আঁকার গুরুত্ব থেকে। কিন্তু নিজের ফাঁকা সময়ের সঙ্গে ম্যাচ করে অন্য টিচার খোঁজা এটা ছবি আঁকা সাবজেক্টটার অবহেলা থেকেই হয়। এইসব ঘটনা প্রত্যেক ছবি আঁকার টিচারের সাথেই হয়ে থাকে, আমিও ব্যতিক্রম নই। তবে আমার কাছে এর ব্যতিক্রম ঘটনা অনেক আছে। বহু ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস সেভেন এইটের পরেও বা  মাধ্যমিকের পরেও,  এইচএস এর পরেও এমনকি আর্ট কলেজ যাবার পরেও তারা ছবি আঁকাটাকে গুরুত্ব দিয়েছে, দিচ্ছে অনলাইন বা অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে যোগাযোগ রয়েছে এবং ক্লাসের বাইরেও খোঁজখবর রাখে। যারা খোঁজ খবর রাখে আমিও তাদের খোঁজ খবর রাখি এবং আমাদের বহু ছাত্র-ছাত্রী ছবি আঁকা থেকেই উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে নিয়েছে।  এমন অভিভাবকও পেয়েছি যিনি তার সন্তানকে ছবি আঁকা ছাড়িয়ে দেবার জন্য জোর করেছেন, বলেছেন ছবি এঁকে কি হবে, তোদের স্যারের মতো শুধু টিউশন করবি? ছবি আঁকা থেকে আর কিছু হয় না।  আবার এমনও ছাত্র পেয়েছি ক্লাস এইটে সে তার অভিভাবককে বলছে আমি পড়াশোনা করবো না আমি ছবি আঁকা শিখবো আর শেখাবো,  স্যারের মতন ছবি আঁকবো, আমি ছবিটা নিয়েই থাকবো। তাকে বোঝানোর দায়িত্ব ছিল আমারও। বর্তমানে সে আর্ট কলেজে পড়ছে। ছবি আঁকা থেকে বহু ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে নানান শিল্প কলার বিষয়ে বা বিনোদন বিভাগে চাকরি করছে। প্রকৃত উত্তর কথায় নয়, কাজেই হয়। সেটা একটু সময় লাগে। আমিও বিভিন্ন ছবি আঁকা বিষয়ের চাকরি করে দেখেছি চাকরি জীবন কতটা সুখকর। আমার মন পড়ে থাকতো ছবিতে তাই একটু-আধটু সুবিধা অসুবিধাগুলোকেই বড় মনে হতো। কোনো রকম আপসে যাবার আগেই রিজাইন দিয়ে চলে এসেছি। ২০১২ তে প্রথম চাকরি SBORD ITI Company সল্টলেক সেক্টর ২,  তারপর বেশ কিছু প্রোডাকশন হাউস, এনজিও, ঋষি অরবিন্দ বিএড কলেজ মেদিনীপুর পাঁচখুড়ির হাট, বিড়লার দুটি স্কুল কলকাতায়। সবথেকে খারাপ অভিজ্ঞতা লাস্ট ২০২৩ এ সিঙ্গুরের এক্সপ্লোরে। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কোনোদিন বসিনি। আর যাই হোক চাকরি কেনার চেষ্টা করিনি। চাকরির আন্দোলনে উপস্থিত  হতে হয়নি। এটা শুধু আমার নয় আর্ট কলেজের কোনো ছেলেকেই চাকরি নিয়ে ভাবতে হয় না। অনেকেই অনেক বড় বড় জায়গায় বহু মাইনের চাকরি করে। আর পড়াশোনার মত ছবি আঁকাতেও সকলেই যে নিজের ইচ্ছামতো জায়গাটা পায় তা তো নয়। তবে ভবিষ্যৎ নেই ছবি আঁকা থেকে এ কথা ভুল।

Share:

More Stories & Notices

View All (112)