ESTD. 2000 অঙ্কনতীর্থ • School of Arts & Drawing • Admissions Open 2026–27
Back to Atelier Gazette

ঊমা

ঊমা

মাস্টারমশাই অবনীন্দ্রনাথকে একটি ছবি দেখাতে এনেছে তাঁর প্রিয় ছাত্রটি। দেবী উমার ছবি। ছবি জুড়ে হালকা-হালকা গেরুয়া রঙ। তা দেখে মাস্টারমশাইয়ের প্রতিক্রিয়া- ‘ছবিতে একটু রঙ দিলে না?... উমাকে একটু সাজিয়ে দাও। কপালে একটু চন্দন-টন্দন পরাও, অন্তত একটি জবাফুল।’ ছাত্র ফিরে গেল। কিন্তু শিক্ষক রাতভর জেগে রইলেন। মন কেবলই অস্থির হয়ে উঠছে। ভাবেন, প্রিয় ছাত্রটি হয়তো তপস্বিনী উমার অন্য রূপ দেখেছে--পাথরের মতো দৃঢ়, রংহীন এক রূপ। রংহীন সে রূপে না-ই থাকতে পারে চন্দন, ফুল!

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শিক্ষক মোটর নিয়ে ছুটলেন ছাত্রের কাছে। এদিকে মন তোলপাড় হয়ে চলেছে, রাতেই বুঝি ছবিতে রং চাপিয়ে ফেলেছে ছাত্রটি। তবে তখন ছাত্রটি প্যালেটে রং গুলে ভাবনাচিন্তা করছে। এমন সময় হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়া। দরজা খুলে দেখেন, দাঁড়িয়ে রয়েছেন মাস্টারমশাই। বললেন, ‘থামো থামো, কি ভুলই আমি করতে যাচ্ছিলুম, তোমার উমা ঠিকই আছে। আর হাত লাগিয়ো না।’
Uma

মহিষাসুরমর্দিনী

সেই ছবিটি হল- ‘উমার তপস্যা’। ছাত্র, নন্দলাল বসু। নন্দলালের উমাকে দেখে অবন ঠাকুর তখনই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, যখন নন্দলাল ফিরে গিয়েছিলেন। আবেগ আর ক্রিয়ার মাঝে যে অবসর, সেই অবসরই তাঁকে রংহীন উমাকে প্রত্যক্ষ করিয়েছিল এবং শেষত তিনি বুঝতে পেরেছিলেন প্রিয় ছাত্রটির কাজের গুরুত্ব। অন্যদিকে, শিক্ষকের কথা অনুযায়ী বাধ্য ছাত্রের মতো নিজের আঁকা ছবি পাল্টে না ফেলে, ঘরে ফিরে এসে গভীরতার সূক্ষতম জায়গায় পৌঁছে ছবিটি নিয়ে ভেবেছিলেন নন্দলাল, কিন্তু ছবিটিতে হাত ঠেকাননি। নিজের অবস্থান আর চেতনাকে এতটুকুও অবিশ্বাস করেননি তিনি। অবসর সময় বৃথা যেতে দেননি তিনিও।    

Share:

More Stories & Notices

View All (112)