ESTD. 2000 অঙ্কনতীর্থ • School of Arts & Drawing • Admissions Open 2026–27
Back to Atelier Gazette

একসাথে সবাই একদিন

একসাথে সবাই একদিন

সোমবার স্কুলের কয়েকজন টিচার, স্কুল থেকে বেরিয়ে একটু আড্ডা গল্প, একটু খাওয়া দাওয়া করে বেশ দেরি হয় । সাইকেলে ফিরছিলাম আরামবাগ থেকে। জয়কৃষ্ণ বাজার মোড় পার হলাম প্রায় তিনটে বাজে। আর কিছুক্ষণ পরেই একটা টিউশন আছে ,যেতে হবে। বৈদ্যপুর মোড় এর আগে একটা আশ্রম মতো কিছু দেখে আমি ভিতরে ঢুকে গেলাম। সাইকেলটাতে তালা দিয়ে একটা বসার জায়গায় বসে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। ঘুম যখন ভাঙলো ঘড়িতে দেখি প্রায় সাড়ে চারটে। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম, বেরিয়ে এসে আর রাস্তা চিনতে পারছি না। কোথা দিয়ে বেরোলাম বুঝতে পারছি না। ভিতরে সাইকেলটা রয়ে গেছে সেটাও খুঁজে পাচ্ছি না। বেশ মুশকিলে পড়লাম। এরমধ্যে একটা গেট চিনতে পারলাম। দেখছি দুটো মেয়ে গেট থেকে বেরিয়ে আসছে। পরনে জিন্সের প্যান্ট এবং গেঞ্জি, কাঁধে দুজনেরই ঝোলা ব্যাগ। আমি গেট এবং চারপাশের পরিবেশ দেখে বেশ বুঝতে পারছি আমি দমদম ছাতাকলে ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সুতরাং মেয়েগুলোর সাথে কথা বলতে আমার অসুবিধা হলো না। আমি তাদেরকে জানাই যে আমি গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে পাস আউট , তোমাদের সিনিয়র । আমার সাইকেলটা ভিতরে রয়ে গেছে, ঠিক কোন গেট দিয়ে ঢুকেছিলাম বুঝতে পারছি না। ওরা আমায় সাহায্য করলো সাইকেলটা পেতে। সাইকেলটা নিয়ে যখন বাইরে বেরোলাম বুঝলাম কলেজের সেই পুরনো বিল্ডিং এটা, একটু ভাঙাচোরা । গেটটার বাইরে এবং চারপাশে বেশ কিছু ছেলে, দু একটি মেয়ে, তারা মাটির উপরেই কিছু পেতে বসে ছবি আঁকছে। আমি প্রথমে দূর থেকে দেখছিলাম তারপরে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে দেখি না তারা কেউ আউটডোর স্টাডি করছে এমন নয়। বেশ সুন্দর পেইন্টিং করছে তবে আউটডোর থেকে নানা এলিমেন্ট নিয়ে সেগুলোকে নিজের মতো দারুন পেন্টিং করছে, প্রায় সকলেই চারকোলে ছবি আঁকছিল। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল। আমার পরের ক্লাস ছিল তাই বেশ ব্যস্ত কিন্তু কিছুতেই ওখান থেকে সরে আসতে পারছিলাম না। আমার পরবর্তী ক্লাস বৈদ্যপুরে আর আমি ফিরছিলাম আরামবাগ স্কুল থেকে ক্লাস করে। এটুকু মনে পড়ছে। কিন্তু এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের পুরনো বিল্ডিং এর সামনে। দমদম স্টেশন থেকে হেঁটে এলে ২০- ৩০ মিনিট লাগে। ওদের সকলের কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছিল আবারও যদি কলেজে ভর্তি হয়ে যেতে পারতাম খুব ভালো হতো। নতুন করে আবার শুরু করতাম। এদিকে মোবাইলে এলার্ম বেজে উঠলো। এবার সত্যিই ঘুমটা ভাঙলো। পুরোটা প্রথম থেকে একটু ভাবলাম। দেখলাম পুরোটা মনে আছে। অনেকদিন পর একটা স্বপ্ন ঘুম ভাঙার পরেও পুরোটা মনে আছে। ভালো লাগছিল ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের সেই পুরনো বিল্ডিং এর গেটটা দেখে। এখন হয়তো এরকম নেই। ১৫ বছর আগেই ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের নতুন বিল্ডিং একটু পাশেই হয়েছে। কিন্তু পুরনো বিল্ডিং টা এখনো আছে। বহুদিন ওদিকে যায়নি, খোঁজখবর নেওয়া হয়নি, পুরনো বিল্ডিং টা কিরকম আছে এখন। এদিকে স্বপ্নে যেটা দেখলাম আরামবাগের কোনো স্কুল থেকে ক্লাস করে ফিরছি। বাস্তবে আমি আরামবাগের কোনো স্কুলে ক্লাস করি না। তারকেশ্বর নেতাজী সুভাষ রোডে সরস্বতী একাডেমী তে সোমবার দুপুরে ক্লাস থাকে। সেদিন বিকালে ও সন্ধ্যায় দুটি টিউশন থাকে। আরামবাগের স্কুলের কলিক যাদের সঙ্গে একটু আড্ডা গল্পে দেরি হয়ে গেছিল তারা অ্যাকচুয়ালি ছিল সিঙ্গুর স্কুলের টিচার। অনেকদিন পরে সবকিছুকে এত কাছে পেয়ে ভালোই লাগলো। কোথায় আরামবাগ, কোথায় সিঙ্গুর, কোথায় দমদম ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজ । 

স্বপন যদি মধুর এমন 

হোক সে মিছেই কল্পনা, 

জাগিও না আমায় জাগিও না......

 

                                                   সৌমেন দাশ

Share:

More Stories & Notices

View All (112)